বাংলাদেশে ও বাংলাদেশী অনলাইন বিজনেসের ভবিষ্যৎ
পর্ব ১:
ব্লগ বিজনেস, ইউটিউব বিজনেস, ফ্রীলান্সিং বিজনেস ও সবশেষে বর্তমানে ই-কমার্স বিজনেস- বাংলাদেশে অনলাইন বিজনেসের এই কয়টি রূপের সাথে সকলেই পরিচিত। অতীত ইতিহাস (ব্লগ, ইউটিউব, ফ্রীলান্সিং) পর্যালোচনা করলে খুব স্পষ্ট যে, অনলাইন বিজনেসে বাংলাদেশ ভয়াবহ রকম দুর্দশাগ্রস্ত। ব্লগ আর ইউটিউব বিজনেস ডিগবাজি খেয়েছে আর ফ্রীলান্সিং এ সাকসেস রেট ০.০০১% এর চেয়েও কম। অথচ ব্যাঙের ছাতার মতো ইনস্টিটিউট আর ট্রেনিং সেন্টার গড়ে উঠেছিল। লক্ষ লক্ষ উৎসাহী জনতা হাজার হাজার টাকা খরচ করে ট্রেনিং নিয়ে ফ্রীলান্সিং পেশায় ঝাঁপিয়ে পড়লো, আর আজকে "অনলাইন ইনকাম" , "আউটসোর্সিং" এই শব্দগুলি শুনলে থুথু ফেলে।
এই সময়ের সহজ ও বিশাল লাভজনক অধ্যায়ের নাম "ই-কমার্স বিজনেস"। কোনো পড়াশুনা লাগে না, কোনো বড় অংকের টাকা লাগে না, কোনো প্ল্যান, পলিসি লাগে না, কোনো শপ লাগে না, অর্থাৎ একেবারে শূন্য হস্তে শুরু করে আমাজান আলিবাবা হওয়া যায় ! এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এক হাজার ই কমার্স ওয়েবসাইট ও দশ হাজার ফেসবুক পেজ ভিত্তিক অনলাইন বিজনেস রমরমা গতিতে এগিয়ে চলছে (সংখ্যা তথ্যসূত্র: ই-ক্যাব গ্রূপ)। আগামী দিনগুলিতে আরো কয়েক লক্ষ পেজ ও ওয়েবসাইট হতে পারে, অতীতের পর্যবেক্ষণ থেকে তাই আশা করছি। তাহলে এই ই-কমার্স ঝড় (?) এর ভবিষ্যৎ কি ?
এ নিয়ে আমার আজকের আলোচনা।
আমি আজকে বিজনেস গ্রোথ নিয়ে আলোচনা করবো আর সাথে সাথে বাংলাদেশের এই অনলাইন বিজনেসগুলোর ভয়াবহ ফাঁকফোকর আর দেখাদেখি বিজনেসের ভয়াবহ পরিণতির বিষয়গুলো তুলে ধরবো।
যেকোনো বিজনেস তিনভাবে বড় ও প্রসারিত হয় :
যেকোনো বিজনেস তিনভাবে বড় ও প্রসারিত হয় :
১) কাস্টমার সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে
২) মাথাপিছু কাস্টমার প্রতি এভারেজ ট্রানজেকশন বৃদ্ধির মাধ্যমে
৩) কাস্টমারদের রিপিট কেনাকাটা করানোর মাধ্যমে
শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী স্মল (এমনকি মাল্টি মিলিয়ন ইনভেস্ট ওয়ালাও ) বিজনেসগুলো মার্ খায় যে কারণগুলোতে তা হলো : বিজনেস মডেল তৈরিতে ব্যর্থতা, রেভেনিউ মডেল তৈরিতে ব্যর্থতা, প্রোডাক্ট অফার জনিত ব্যর্থতা কিংবা স্কেল ও মেজারমেন্ট জনিত ব্যর্থতা। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই বিজনেসম্যানদের অভিযোগ "কাস্টমার নাই " , "কেউ প্রোডাক্ট কিনে না " "ট্রাফিক নাই " এই সব অজুহাত স্কলাররা স্বীকার করে না এবং এই ব্যাপারে যথাযথ প্রমান দেখিয়ে দেয়।
বিজনেস গ্রোথ মডেলের ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ ইলিমেন্ট:
১) মার্কেট রিসার্চ
২) ট্রাফিক সোর্স
৩) অফারিং লিড ম্যাগনেট
৪) অফারিং ফ্রীবি
৫) অফারিং কোর প্রোডাক্ট
৬) অফারিং প্রফিট অপটিমাইজার
৭) এস্টাবলিশিং রিটার্ন পাথ
গ্রোথ মডেল ১: মার্কেট রিসার্চ
বিজনেস মডেল বা বিজনেস গ্রোথ বা প্রফিট ক্ল্যারিটি শুরু হয় - মার্কেট রিসার্চ শুরুর মাধ্যমে। দুঃখের বিষয় হলো : বাংলাদেশের কোনো একটা সিঙ্গেল অনলাইন বিজনেসও মার্কেট রিসার্চ করে মাঠে নামেনি। (আমি এই দাবিটি করছি এবং এর স্বপক্ষে যথাযথ যুক্তি তুলে ধরবো। যারা আমার এই দাবি চ্যালেঞ্জ করতে চান, যথাযথ তথ্য প্রমানসহ বক্তব্য উপস্থাপন করুন)। মার্কেট রিসার্চ মানে হলো- আপনার আপকামিং প্রোডাক্ট এর মার্কেট কতটা ফিট ? এর চাহিদা কেমন ? এর বাস্তবতা কি? আর এই মার্কেট রিসার্চের ৪ টি উপাদান : ১) কম্পিটিটর রিসার্চ ২) কাস্টমার রিসার্চ ৩) ফানেল রিসার্চ ও ৪) এড রিসার্চ। এই ৪ টি কাজ করতে কমপক্ষে কয়েক মাস ও কয়েকশত অনলাইন টুলস (বোথ পেইড এন্ড ফ্রি) ইউজ করতে হয়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পাকাপোক্ত ভিত্তি তৈরী করতে হয় যাতে মাঠে নামার পূর্বেই লাভ ক্ষতির একুরেট হিসাব ভবিষ্যৎবাণী করা যায় এবং তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়।
আর হুজুগে পরে যদি "মার্কেট ফিট" তৈরী করা হয় তাহলে তার ভবিষ্যত কি, তার একটা নমুনা : কিছুদিন আগে যখন অনলাইন ফ্রীলান্সিং ব্যাপক ভাইরাল হয়, তখন কতিপয় বাংলাদেশী ব্যক্তিও দেশে একটা আপওয়ার্ক টাইপ ফ্রীলান্সিং প্লাটফর্ম তৈরী করার চিন্তা করেন এবং তা বাস্তবে রূপ দেন। কিন্তু এটার বর্তমান অবস্থা কি ? কেউ কি জানেন? যেখানে এখন আপওয়ার্ক-ই নাই, সেখানে বাংলাদেশী আপওয়ার্ক!
বাংলাদেশে আমরা কিভাবে অনলাইন বিজনেস শুরু করছি তার কিছু নমুনা :
১) আমি এই গ্রূপে নতুন। ভাবছি আলতা সুনু পাউডার দিয়ে অনলাইন শুরু করবো। কে কে পাইকারি দরে দিতে পারবেন, কমেন্টস করুন লিংক সহ।
২) আমার কাছে টাকা নাই। ভাবছি কমিশনভিত্তিক প্রোডাক্ট সেল করবো। প্রোডাক্ট অর্ডার হলে আপনার কাছ থেকে এনে কাস্টমারকে দিবো আর বিক্রি হলে পার্সেন্টিজ দিবেন। কে কে কমিশনে প্রোডাক্ট দিতে পারবেন জানান।
৩) ভাই , আমি অনলাইনে ঘোড়ার ডিম্ বিক্রি করতে চাই। আপনারা কে কে খুচরা বা পাইকারি দিতে পারবেন, বলেন।
৪) সবাই তো সবকিছু দিয়া শুরু কইরা ফালাইছে। আমি কি দিয়া শুরু করি ? ওকে, নো প্রব্লেম, পাইছি, কেউ কেরোসিন তেল দিয়া শুরু করেনি, আমার প্রোডাক্ট হিট হবেই। আপনাদের কার কার কেরোসিন পাইকারি বা খুচরা লাগবে?
৫) যারা মার্কেট প্লেস শুরু করেছেন তাদের আহ্বান:
আমরা আমাদের সাইটে মার্চেন্ট অপশন চালু করেছি। যারা আমাদের সাথে সেলার হিসেবে প্রোডাক্ট বিক্রি করতে চান, কমেন্ট করুন বা এই ইমেইল এ ডিটেইলস সেন্ড করুন। আমরা রিভিউ করে আপনাকে কল করবো।
এই হলো বাংলাদেশের অনলাইন বিজনেসের (ব্যক্তি বা সামষ্টিক) শুরু যেভাবে হয় তার হাল হকিকত । আমরা সবসময়-ই বিশ্ব থেকে একধাপ এগিয়ে এবং নতুনত্ব এ বিশ্বাসী। ওয়ার্ল্ড টপ স্কলারদের বুদ্ধি, পরামর্শ কেন আমরা নিবো ? আমরা আমাদের তৈরিকৃত আইডিয়া দিয়ে শুরু করবো কারণ আমরা উদ্যোক্তা ( উদ্ভট কর্তা !)।
প্রোডাক্ট মার্কেট রিসার্চের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো : "লাইফ ইজ বেটার"। অর্থাৎ, আপনার প্রোডাক্ট/ সার্ভিস কিভাবে কাস্টমারদের জীবন উন্নত করবে সেই বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়া। এক্সিস্টিং প্রোডাক্ট/সার্ভিসে কাস্টমাররা হ্যাপি নয়, তারা অতৃপ্ত, বিরক্ত, অসুখী, পীড়াগ্রস্ত, আতঙ্কগ্রস্ত ইত্যাদি। আর আপনার প্রোডাক্ট পেলে কাস্টমাররা এই সব সমস্যা থেকে চিরমুক্তি পাবে, সেইভাবে আপনার প্রোডাক্ট/সার্ভিস তৈরী করবেন ও হাইয়েস্ট কুয়ালিটি প্রদান করবেন যাতে তারা পূর্বের পেইনফুল এক্সপেরিয়েন্স থেকে ওয়াও (অত্যন্ত হ্যাপি) হতে পারে।
স্মল বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন অনুযায়ী ৯৫% বিজনেস শুরু হওয়ার ৫ বছরের মধ্যে হারিয়ে যায় তার মস্ত বড়ো কারণ হলো : অধিকাংশ বিজনেসম্যান জানে না, তার প্রোডাক্ট/ সার্ভিসের ক্রেতা কে? অর্থাৎ, বিজনেস শুরু হওয়ার আগে মার্কেট রিসার্চ করা হয়নি। আর এর ফলে কার কাছে কি অফার করতে যাচ্ছে , তা জানে না। কি মেসেজ (মার্কেটিং) প্রদান করবে তাও জানে না। ট্রাফিক টেম্পারেচার না জেনে আন্দাজেই আবোল তাবোল মার্কেটিং করে বারোটা বাজানো, ইত্যাদি বহু সমস্যায় জর্জরিত থেকে কোনো রকমে আশায় আশায় দিন কাটাতে থাকে। একসময় ৩-৪ বছর পরে চরম বিরক্তি ও হতাশায় বিজনেস গুটিয়ে নেয়। বাংলাদেশে ব্লগিং, আর আউটসোর্সিং বিজনেসের (ট্রেনিং দাতা ও গ্রহীতা উভয়পক্ষ) এই বেহাল দশার আর অন্য কোনো কারণ নাই।
এভারেজ মার্কেটাররা বিজ্ঞাপনে শুধু আর্টিকুলেট করে, কাস্টমাররা কি পেতে যাচ্ছে। আর গ্রেট মার্কেটাররা আর্টিকুলেট করে, কাস্টমারদের মাঝে এই প্রোডাক্ট কি ফীল করাবে, তাদের এভারেজ দিনগুলো কিভাবে যাবে, আর তাদের স্ট্যাটাসের কি পরিবর্তন ঘটবে।
তাহলে সারমর্ম হলো : যে বিজনেসের ভ্যালু নাই, সেটা বেশিদিন টিকে না।
গ্রোথ মডেল ২: ট্রাফিক সোর্স
তাহলে সারমর্ম হলো : যে বিজনেসের ভ্যালু নাই, সেটা বেশিদিন টিকে না।
গ্রোথ মডেল ২: ট্রাফিক সোর্স
আগেই বলেছি, ট্রাফিক ইজ নো ওয়ে এ প্রব্লেম। একটা প্রব্লেম আলোচনা করেছি - "মার্কেট ফিট"। আর অন্য প্রব্লেমগুলো আলোচনায় আসবে যথাসময়ে।
অনলাইন বিজনেসের ট্রাফিক সোর্সগুলো হলো: গুগল, সোশ্যাল সাইটস (ইউটিউব, ফেসবুক ও অন্যান্য ) ,ইমেইল মার্কেটিং, ব্যানার এডভার্টাইজিং, ব্লগিং, অর্গানিক সোশ্যাল মিডিয়া, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ইত্যাদি। এছাড়া আরো বহু ফ্রি ও পেইড টুল রয়েছে যারা আপনার সাইটে ট্রাফিক এনে দিবে।
এত্ত এত্ত ট্রাফিক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অনলাইন বিজনেস সম্পূর্ণরূপে ফেসবুক নির্ভর। শুধু তাই নয়, হাতে গোনা ১-২ টি সাইট ছাড়া টপ টু বটম সব অনলাইন বিজনেসের মূল ট্রাফিক সোর্স হল " ফেসবুক বুস্ট "। বুস্ট বাদে ফেসবুকের আরো অনেক ডায়নামিক বিজ্ঞাপন ফিচার রয়েছে, কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বড় বড় মার্কেটপ্লেস, ইক্যাব অথরিটি পার্সন যাদের ই-কমার্স বিজনেস রয়েছে, ছোট বড় সকলের মূল ও একমাত্র বিজ্ঞাপন ফিচার হলো : ফেসবুক বুস্ট। ওয়েবসাইটে ট্রাফিক নিতে না পেরে বুস্ট বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুকেই অর্ডার গ্রহণ, কনফার্মেশন করা হয়। এক্ষেত্রে, বিজনেসম্যানদের বক্তব্য হচ্ছে- ১) ওয়েব কনভার্সন বিজ্ঞাপনে মানুষ ওয়েবসাইটে যায় না। ২) মানুষ ফ্রি ফেসবুক ইউজ করে, তাই ওয়েবসাইটে গেলে এমবি ডাটা কাটবে, তাই কেউ যায় না। তাই বুস্ট ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। এইরকম আরো কতগুলো অজুহাত রেডি আছে। কিন্তু আসলেই কি এটা মূল কারণ ? আমার এই আলোচনার শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন (বেশ কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিকভাবে এই আলোচনা চলবে, তাই প্রতিদিনের আপডেট মিস করবেন না )।
এক্ষেত্রে বিজনেসম্যানদের আর একটি বক্তব্য খুব স্পষ্ট : সেল আসলেই হল। ওয়েব কনভার্শন এ সেল আসে না, বুস্ট করেই যদি সেল আসে তাহলে ক্ষতি কি ? হ্যা, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য: সেল জেনারেট করা।
আমার প্রশ্ন হলো : তাহলে ওয়েবসাইট করেছেন কেন? ওয়েবসাইটে ট্রাফিক না নিতে পেরে ফেসবুকে বুস্ট করে সেল করছেন, আপনি কি সফল নাকি ব্যর্থ ? এটা কি ছোটোখাটো ব্যর্থতা নাকি এর পরিনাম খুব ভয়াবহ ? ওয়েবসাইট না করে ফেসবুক দিয়েই বিজনেস চালিয়ে যেতে পারতেন, শুধু শুধু ওয়েবসাইট করলেন কেন? বরং, আপনার (যাদের ওয়েবসাইট আছে ) চেয়ে ফেসবুক ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আছে এবং তারা সফল। তাই নয় কি?
আমার প্রশ্ন হলো : তাহলে ওয়েবসাইট করেছেন কেন? ওয়েবসাইটে ট্রাফিক না নিতে পেরে ফেসবুকে বুস্ট করে সেল করছেন, আপনি কি সফল নাকি ব্যর্থ ? এটা কি ছোটোখাটো ব্যর্থতা নাকি এর পরিনাম খুব ভয়াবহ ? ওয়েবসাইট না করে ফেসবুক দিয়েই বিজনেস চালিয়ে যেতে পারতেন, শুধু শুধু ওয়েবসাইট করলেন কেন? বরং, আপনার (যাদের ওয়েবসাইট আছে ) চেয়ে ফেসবুক ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আছে এবং তারা সফল। তাই নয় কি?
বিশ্বব্যাপী আর কোনো দেশে "বুস্ট নির্ভর" ই-কমার্স বিজনেস নাই (১-২ টা ব্যতিক্রম নিয়ে উদাহরণ দিবেন না )। বিশ্বব্যাপী আর কোনো দেশে ফেসবুক "ওয়ান ও অনলি " কেনাকাটার মাধ্যম নয়। বরং ফেসবুক হচ্ছে, সেলস ফানেলের ইনিশিয়াল স্টেপ। কিন্তু বাংলাদেশে এটা ইনিশিয়াল, ফাইনাল, চরম, সবকিছু।
প্রশ্ন হতে পারে, বুস্ট এ কি প্রব্লেম ? উত্তর খুব-ই সোজা : বুস্টিং এ আপনার বিজনেস ভ্যালু এস্টাব্লিশ হয় না। যেখানে আপনার বিজনেস প্রোডাক্ট/সার্ভিসের ভ্যালু-ই উপস্থাপন করতে পারছেন না, সেখানে ডেইলি হাজার হাজার কাস্টমার পেলেও (বুস্ট করে) এই বিজনেসের কি আসে যায় ? বুস্ট করে কোর অফার প্রদান করতে পারবেন না। প্রফিট অপটিমাইজার অফার করতে পারবেন না। বুস্টিং এ অনেক সীমাবদ্ধতা। আর বুস্টিং কোনো বিজ্ঞাপন নয়। এটা তাদের জন্যই করা হয়েছে যারা ফেসবুক বিজ্ঞাপনের টেকনিক্যাল সাইডে ব-কলম। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কি দেখি ? এই এক বুস্ট নির্ভর পুরো ই কমার্স ইন্ডাস্ট্রি, শত শত ই কমার্স প্লাটফর্ম হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। অজস্র ফেসবুক এডভার্টাইজার ও এজেন্সি তৈরী হয়ে গেছে এই বুস্টিং কেন্দ্রিক। মনে রাখবেন, যে জিনিস যত সস্তায় পাওয়া যায়, তার স্থায়িত্বও ততই কম। অতীতে ফ্রীলান্সিং ট্রেনিং এ তাই হয়েছে। মাত্র হাজার ১২-১৫ টাকা দিলেই আর তথাকথিত ট্রেনিং সেন্টারে নাম লিখলেই ফ্রীলান্সিং করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা যায় ! আপওয়ার্ক এ এক্সাম ট্রেনিং দাতারাই দিয়ে দিবে। সবকিছু রেডি করে দিবে। আপনি শুধু বিড করবেন আর ইনকাম করতে থাকবেন ! এর পরিণতি কি হলো ? বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
গ্রোথ মডেল ৩: অফারিং লিড ম্যাগনেট
